পটুয়াখালীর বাউফলে হানি ট্র্যাপ, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আজাহার খানের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে মুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। সোমবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কাফনের কাপড় পরে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং বিভিন্ন স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে বের হয়ে আজাহার খান প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। মামলা করার পরও প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত আজাহার খানকে পুনরায় গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান কাফনের কাপড় পরিহিত অবস্থায় বলেন, "আমাদের অভিযোগের পর আজহার গ্রেফতার হলেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবার অস্ত্রের মহড়া দিয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি এখন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছি। আমি চাই এই সন্ত্রাসী আজহারকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদাবাড়িয়ার হাজিরহাট বন্দরে প্রায় ১০০ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পিস্তল, ছুরি ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক কোটিরও বেশি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, "আমাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। মানসম্মান রক্ষার জন্য আমি বাধ্য হয়ে ধাপে ধাপে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিই।"
এর আগে, হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ১৩ মে রাতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ আজাহার খান, কবির হোসেন ও রাসেল তালুকদারকে আটক করে। পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে এক ঔষধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশে হানি ট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জামিনে মুক্তি ও পুনরায় হুমকি দেওয়ার ঘটনা আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা কমিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।