পবিত্র ঈদুল আযহা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ঈদুল আযহা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৭টায় পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পৌর শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করা হবে।
সভায় জানানো হয়, কোরবানি পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পশুর বর্জ্য অপসারণে পটুয়াখালী পৌরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি সম্পন্ন করা, রাস্তায় রক্ত-বর্জ্য না ফেলা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম সজল, পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ আলম, পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আরিফসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, "ঈদুল আযহা একটি ত্যাগের মহান উৎসব। এই উৎসব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কোরবানির পশু যেন স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাই করা হয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।"
বাংলাদেশে ঈদুল আযহা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই ঈদ পালিত হয়। কোরবানি, ঈদগাহে জামাত, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও দান-খয়রাত এই ঈদের মূল বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় প্রশাসন প্রতি বছর ঈদ উদযাপনে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি সভা আয়োজন করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমন্বিত পরিকল্পনা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ঈদ উদযাপন আরও নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব।