পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুড়িয়া ইউনিয়নের শৌলা এলাকায় সরকারি সিকস্তি জমি ও খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মো. মুসা হাওলাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাখাওয়াত হোসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, "শৌলার খাল" হিসেবে পরিচিত সরকারি জমি ভরাট করে তিনতলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হচ্ছে, যদিও তহসিল অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৌলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মুসা হাওলাদার সরকারি খাল ভরাট করে তিনতলা ভবনের ফাউন্ডেশন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, জমিটি "শৌলার খাল" হিসেবে পরিচিত এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার ও নৌযান চলাচলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ এখনও চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তহসিল অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা মানছেন না।
স্থানীয় তহসিলদার জানান, "সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের পর অভিযুক্তকে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি সেই নির্দেশনা মানছেন না।"
অভিযুক্ত মো. মুসা হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি আমার নিজ মালিকানাধীন জমিতেই ভবন নির্মাণ করছি এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।"
অভিযোগকারী মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রশাসনের কাছে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "সরকারি খাল ভরাট করে ব্যক্তিগত স্বার্থে ভবন নির্মাণ পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনের জন্য ক্ষতিকর। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।"
বাংলাদেশে সরকারি জমি, খাল-নালা ও জলাশয় দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা। ভূমি আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পানি সম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি জমি ও জলাশয় দখল নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালীদের চাপ ও দুর্বল নজরদারির কারণে এসব আইন প্রয়োগে ঘাটতি থেকে যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল জরিপ, নিয়মিত মনিটরিং ও জনসচেতনতার মাধ্যমে সরকারি সম্পদ রক্ষা সম্ভব।