ভোলায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ অভিযানে ১০ হাজার ১৪০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে শহরের বাপ্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এ মাছগুলো জব্দ করে বুধবার (১৩ মে) দুপুরে স্থানীয় অসহায়, দরিদ্র মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, ৩টি ট্রাক বোঝাই করে ভোলা থেকে মাছ পাচার হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ভোলা শহরের বাপ্তা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাকগুলো আটক করা হয়। পরবর্তীতে বুধবার সকালে ট্রাকগুলোতে থাকা বিভিন্ন ককশীটে প্যাকেটজাতকৃত মাছ যাচাই-বাছাই শেষে যেগুলো সামুদ্রিক মাছ নয়, এমন ১টি ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২টি ট্রাকে সামুদ্রিক মাছ পরিলক্ষিত হওয়ায় সেগুলো জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মাছের পরিমাণ ১০ হাজার ১৪০ কেজি, যার বেশিরভাগই সামুদ্রিক ইলিশ মাছ। এছাড়াও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ রয়েছে। জব্দকৃত মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পরবর্তীতে জব্দকৃত মাছগুলো দুপুরে স্থানীয় অসহায়, দরিদ্র মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
মেহেদী হাসান ভূঁইয়া আরও বলেন, "চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিনের জন্য বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই সময়ে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার কঠোর আইন রয়েছে।"
তিনি জানান, দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জেলা মৎস্য অফিস ও কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫৮ দিনের জেলে নিষেধাজ্ঞা মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রয়োগ করা হয়, যাতে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সামুদ্রিক মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে। কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব।