ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা ও এডিস মশার বিস্তার রোধে পটুয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ব্র্যাক। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে 'জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্প'-এর আওতায় এ ক্লিনিং ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির উদ্যোগে পরিচালিত এ কার্যক্রমে অংশ নেয় ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন (ডিওয়াইএফ) ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী জেলা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা। ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার সম্ভাব্য আবাসস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক তাহজিব আলম তুয়ান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহম্মেদ কাওসার ইবু এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী জেলা ইউনিটের উপ-যুব প্রধান এস এম সজিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, "বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ আগের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তার লাভ করছে। শুধু চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র কিংবা জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল।"
তিনি আরও বলেন, "ডেঙ্গু এখন শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণ করলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।"
ধূমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আহম্মেদ কাওসার ইবু বলেন, "সামাজিক পরিবর্তনের জন্য তরুণদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি সংস্থা নয়, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।"
ব্র্যাকের অফিসার (জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য প্রকল্প) মোছা. করবী কানন শিশির জানান, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় শুরু হলেও ব্র্যাকের এ কার্যক্রম জেলার আটটি উপজেলাতেই পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশে ডেঙ্গু একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গুর মৌসুমী সীমানা পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্প্রদায়ভিত্তিক সচেতনতা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত নজরদারি সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। স্থানীয় পর্যায়ের এসব উদ্যোগ জাতীয় স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।