আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে এবং উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ৬ জুন থেকে শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ইতিমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হবে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "স্বাভাবিকভাবে ১৬ বছর বয়সে এসএসসি ও সমমান এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণ্ডি পাড় হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা ২০ বছর বয়সে এইচএসসি ও সমমান পাস করছেন। গড়ে ২০ লাখ পরীক্ষার্থী পাবলিক পরীক্ষা দিলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডে জাতি ৪০ লাখ বছর পিছিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "এসএসসি পরীক্ষার জন্য বসে থাকে ছাত্র-ছাত্রীরা, প্রায় এক বছর নষ্ট হয়ে যায় এবং এইচএসসি পরীক্ষার জন্যও প্রায় এক বছর নষ্ট হয়ে যায়। এই গ্যাপটাকে ক্রমান্বয়ে আমরা ক্লোজ করতে চাচ্ছি।"
শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচাতে ডিসেম্বরে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হলেও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগামী বছরের সূচি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, "আগামী বছরগুলোতে ক্রমান্বয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বছরের শেষে নিয়ে আসা হবে। আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে দুই বছর যেন নষ্ট না হয়।"
এসএসসি ও এইচএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২ মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল সেমিস্টারে যাতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারেন, সে অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যের পাঠ্যবই হাতে পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, "২০০২ সালের জানুয়ারি মাসের এক তারিখে আমরা বই দিয়েছিলাম, ২০০৬ সাল পর্যন্ত দিয়ে আসছি। এটা তো আমাদের আগের প্র্যাকটিস।"
এর আগে গত বুধবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ অংশীজনরা জানুয়ারিতে এসএসসি ও জুনে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সেশনজট ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সময় নষ্ট হওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও সূচির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষার সময়সূচি যৌক্তিককরণ, সিলেবাস সংকোচন ও দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পথ সহজ করা সম্ভব।