পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া চার কিশোরীকে চারদিন পর বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ি মৌচাক এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ এক কিশোরীর পিতা ও বাউফল থানা পুলিশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত রোববার (১০ মে) সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি চার কিশোরী। নিখোঁজদের মধ্যে তিনজন নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং একজন পাশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। ঘটনার পরপরই রোববার রাতে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি মৌচাক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ এক কিশোরীর পিতা মুঠোফোনে জানান, "চারদিন চরম উৎকণ্ঠায় ছিলাম। মেয়েসহ চারজনকেই সুস্থ অবস্থায় পেয়েছি। এখন তাদের কালিয়াকৈর থানায় নেওয়া হচ্ছে।"
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, "তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই চার কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা গার্মেন্টসে চাকরি করার উদ্দেশ্যে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিল। চাকরির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পুলিশের নজরে আসে এবং উদ্ধার করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "কিশোরীদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।"
বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়া ও গার্মেন্টস শিল্পে কাজের আকর্ষণে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অভিভাবকদের অজান্তে শহরমুখী হওয়া শিশুদের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত সচেতনতা ও নজরদারির মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।