পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও জেলেদের সহায়তায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে আধুনিকায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এমপি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার নন্দী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তপন মজুমদার, দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিদ্দিক আহমেদ মোল্লা, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল বশার এবং ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোহরব হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দশমিনা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী ও চরবোরহান ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীতে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। এ সময় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা ৮০০ জেলের মধ্যে সরকারি সহায়তা হিসেবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
প্রতি জেলেকে ২ কেজি আটা, ১৬ কেজি আলু, ৮ কেজি মসুর ডাল, ৪ কেজি চিনি, ২ কেজি লবণ এবং ১০ কেজি সয়াবিন তেল দেওয়া হচ্ছে। গত বুধবার এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। শুক্রবার প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত থেকে বাঁশবাড়িয়া ও দশমিনা ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৮০০ জেলের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।