ন্যাটো সদস্যভুক্ত বাল্টিক রাষ্ট্র লাটভিয়ায় রুশ ভূখণ্ড থেকে আসা দুটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এতে রেজেকনের একটি তেল সংরক্ষণাগারের চারটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য এই ড্রোনগুলো নিক্ষেপ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাটভিয়ার সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিস স্প্রুডস জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এলএসএম-কে বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে এই ড্রোন দুটি উৎক্ষেপণ করেছিল।” তিনি আরও জানান, বহুজাতিক ন্যাটো বাল্টিক এয়ার পুলিশিং মিশনের যুদ্ধবিমান ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৯ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১টা ৯ মিনিট) রুশ সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের জন্য ড্রোন সতর্কতা জারি করে লাটভিয়ার কর্তৃপক্ষ। সতর্কতায় সবাইকে ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাশিয়ান সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রেজেকনে অবস্থিত তেল সংরক্ষণাগারে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও দমকল বাহিনী জানিয়েছে, সেখানে চারটি খালি তেলের ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্যাংকগুলোর একটির প্রায় ৩০ বর্গমিটার এলাকায় ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলকর্মীরা। ঘটনাস্থল থেকে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
রেজেকনের পৌর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার ওই এলাকার সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে। যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাসের শেষের দিকেও লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও লিথুয়ানিয়ায় ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ড্রোন স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চিমনিতে আঘাত হানে এবং অপরটি হিমায়িত হ্রদে বিধ্বস্ত হয়ে বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হয়, ওই ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে গত এপ্রিলে বাল্টিক এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কখনোই রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ড্রোন হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবারের এই নতুন ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের সরাসরি ধাক্কা ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তেও পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কাকে আরও জোরদার করল।