ব্যবসায়িক চাপের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের যুগান্তকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন শিথিল করতে সম্মত হয়েছে। চুক্তিতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পিছিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিলম্বিত করা এবং অনুমোদনহীন যৌনস্পষ্ট ছবি তৈরির এআই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমালোচকরা এই সিদ্ধান্তকে বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে ইউরোপের নতিস্বীকার হিসেবে দেখছেন।
ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার নয় ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আইনপ্রণেতারা এই অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছান। আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য আগামী মাসগুলোতে এটি সদস্য রাষ্ট্র ও পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে। ইউরোপীয় কমিশনের একগুচ্ছ নতুন ডিজিটাল বিধি সরলীকরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ ছিল, জটিল ও পরস্পরবিরোধী নিয়মকানুন যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার প্রতিযোগীদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বর্তমানে ইইউ'র আবর্তনশীল প্রেসিডেন্সির দায়িত্বে থাকা সাইপ্রাসের উপ-ইউরোপীয় বিষয়ক মন্ত্রী মারিলেনা রাওনা এক বিবৃতিতে বলেন, “এআই আইন সংক্রান্ত আজকের এই সমঝোতা পুনরাবৃত্তিমূলক প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে আমাদের কোম্পানিগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহায়তা করবে।”
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক্স, জরুরি অবকাঠামো ও আইন প্রয়োগের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এআই ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিয়ম বলবৎ হওয়ার সময়সীমা আগামী ২ আগস্টের পরিবর্তে পিছিয়ে ২ ডিসেম্বর ২০২৭ করা হয়েছে। একইসঙ্গে শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতির মতো সরঞ্জামকে এআই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে এগুলো খাতভিত্তিক নিয়মের আওতায় থাকায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই ছাড় দেওয়া হলো।
সবচেয়ে কঠোর সিদ্ধান্তটি এসেছে ডিপফেক ও নগ্নতা তৈরির এআই অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে। ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইয়ের চ্যাটবট ‘গ্রোক’-এর তৈরি যৌনস্পষ্ট কন্টেন্ট ও ডিপফেকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে অননুমোদিত ডিপ ন্যুড ছবি তৈরির এআই চর্চা নিষিদ্ধে একমত হয়েছেন আইনপ্রণেতারা। আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ডাচ আইনপ্রণেতা কিম ফান স্পারেনটাক বলেন, “এ বছরের শেষ নাগাদ সবাই, বিশেষ করে নারী ও কিশোরীরা ইইউর বাজারে সহজলভ্য ভয়ঙ্কর নগ্নতা তৈরির অ্যাপ থেকে নিরাপদ থাকবে। মানুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতার সুস্পষ্ট ইতি টানলাম আমরা আজ।”
এছাড়া এআই দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট চিহ্নিত করতে বাধ্যতামূলক ওয়াটারমার্কিংয়ের নিয়মও ২ ডিসেম্বর থেকেই বলবৎ হবে।
উল্লেখ্য, শিশু, শ্রমিক, কোম্পানি ও সাইবার নিরাপত্তায় প্রযুক্তিটির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থেকে ২০২৪ সালের আগস্টে এই আইন কার্যকর হয়। ধাপে ধাপে এর প্রয়োগের কথা থাকলেও বর্তমান সংশোধনীতেও এটি বিশ্বের ‘সবচেয়ে কঠোর’ এআই বিধি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।