গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান সংবেদনশীল আলোচনার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়ার ছেলে নিহত হয়েছেন। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার রাতে পরিচালিত ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত আজ্জাম আল-হাইয়া বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসিম নাইম এ তথ্য জানিয়েছেন। গাজা থেকে নির্বাসিত হামাস প্রধানের ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া এটাই চ চতুর্থ সন্তান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
খলিল আল-হাইয়া এর আগেও একাধিক ইসরায়েলি প্রাণঘাতী হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় তাঁর এক ছেলে নিহত হলেও তিনি প্রাণে রক্ষা পান। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে গাজার বিমান হামলায় তাঁর আরও দুই ছেলে মারা গিয়েছিলেন।
বুধবার রাতে ছেলের মৃত্যুর খবর প্রকাশের আগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় খলিল আল-হাইয়া ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “এই ইহুদিবাদী হামলা ও চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে দখলদার বাহিনী যুদ্ধবিরতি কিংবা এর প্রথম ধাপ মেনে চলতে মোটেও আগ্রহী নয়।”
এই সহিংসতা এমন এক সময় ঘটল, যখন হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর নেতারা কায়রোতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসের’ প্রধান দূত নিকোলে ম্লাদেনভের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের লক্ষ্যে এই আলোচনা চলছিল। গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাস যে পরিকল্পনায় সম্মত হয়, তাতে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন শুরু এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের কথা বলা হয়েছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এই শান্তি প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নে এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
বুধবার রয়টার্সকে এক হামাস কর্মকর্তা জানান, দলটি ম্লাদেনভকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল প্রথম ধাপের সব বাধ্যবাধকতা— বিশেষ করে হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ না করা পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপের গুরুতর কোনো আলোচনায় তারা বসবে না।
স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৮৩০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদিকে ইসরায়েলের দাবি, একই সময়সীমায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের চার সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযানকে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে আসছে। তবে ক‚টনৈতিক সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, হামাসের সমঝোতা দলের শীর্ষ নেতার ছেলেকে হত্যার এই ঘটনা আগামীতেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।