পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কলাগাছিয়া চরে দোকান চুরির অভিযোগ তুলে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও এক শিশুর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (৩ মে) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যায়, রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দুই শিশু কান্নায় ভেঙে পড়েছে। নির্যাতিত শিশু দুজন হলো—জিহাদ (৫) ও তার বড় ভাই শামিম (৭)। শামিমের মাথার একাংশের চুল কাটা অবস্থায় দেখা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তোলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার দুপুরে কলাগাছিয়া চরে তোফায়েল দালালের দোকানে চুরির অভিযোগ তোলেন দোকানের কর্মচারী আল আমিন। পরে ওই অভিযোগে শিশু দুটিকে গাছে বেঁধে রাখা হয় এবং বড় ভাই শামিমের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
নির্যাতিত শিশুদের মা লাইলি বেগম বলেন, "ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্তানদের গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই। আমাকে দেখেই তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরির অভিযোগ তুলে শাস্তি দেওয়ার কথা জানান।"
শিশুদের বাবা স্বপন দালাল অভিযোগ করেন, "চুরির অপবাদ দিয়ে আমার দুই সন্তানকে মারধর করে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি একজনের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, যা চরম অমানবিক।"
অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করে দোকান মালিক তোফায়েল দালাল বলেন, "শিশু দু'টি আগের দিনও দোকানে চুরি করেছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি। আমার কর্মচারী তাদের গাছে বেঁধে রাখলেও মারধর বা চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।"
পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। সোমবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রাঙ্গাবালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াছ হোসেন মুন্সি বলেন, "একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশে শিশু অধিকার সংরক্ষণে 'শিশু আইন ২০১৩' ও 'শিশু শ্রম নিরোধ আইন ২০০৬' সহ একাধিক আইনি কাঠামো রয়েছে। শিশুদের বিরুদ্ধে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ বা শাস্তি প্রদান আইনত নিষিদ্ধ। তবে প্রত্যন্ত ও দ্বীপাঞ্চলে আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে শিশু নির্যাতনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে। শিশু সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, সমাজকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।