সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পটুয়াখালীতে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৮০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত মধ্যরাতে পটুয়াখালীর টোল প্লাজা এলাকায় সন্দেহজনক তিনটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে এ মাছ জব্দ করা হয়।
সরকার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গত ৫ মে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পটুয়াখালীর টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্দেহজনক তিনটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৮০০ কেজি বিভিন্ন প্রকার সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মাছ পটুয়াখালী উপজেলা মৎস্য প্রতিনিধির উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
কোস্ট গার্ড পটুয়াখালী স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানান, "মৎস্যসম্পদ রক্ষায় কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ সামুদ্রিক মাছ আহরণ বা পরিবহন করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিষয়। প্রতি বছর ৫৮ দিনের জেলে নিষেধাজ্ঞা মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রয়োগ করা হয়, যাতে মাছের জনসংখ্যা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদী জীবিকা নিশ্চিত হয়। কোস্ট গার্ড, মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ টেকসইভাবে রক্ষা করা সম্ভব।