ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের 'ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (২য় সংশোধিত) প্রকল্প'-এর আওতায় ২ হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
Body: উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও মৎস্য বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রতি জেলে পরিবারকে ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি মসুর ডাল, ১৬ কেজি আলু, ১০ লিটার সয়াবিন তেল, ৪ কেজি চিনি ও ৪ কেজি লবণ সমন্বিত প্যাকেট প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, "ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় সরকার যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন যেন আমাদের শ্রমজীবী জেলে ভাইদের কষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এই খাদ্য সহায়তা জেলেদের সংকটকালীন সময়ে টিকে থাকতে বড় ভূমিকা রাখবে।"
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, "কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মৎস্য বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃত জেলেরা যেন এই সুবিধার আওতায় আসে, সে বিষয়ে কঠোর তদারকি করা হচ্ছে।"
খাদ্যসামগ্রী হাতে পেয়ে জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারে বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। এর ফলে ইলিশ রক্ষায় সরকারি আইন মেনে চলতে তারা আরও উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে প্রতি বছর ৫৮ দিনের জন্য সামুদ্রিক জলসীমায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। ২০২৬ সালে এই নিষেধাজ্ঞা ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবিকা সংকট মোকাবিলায় সরকার খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরন্য সহায়তা জেলেদের পাশাপাশি ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।