রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় ইয়াবা সংক্রান্ত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক অসহায় পরিবার। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গুলশাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর নবী (৩১), পিতা মৃত আবু তাহের, তার স্ত্রী-সন্তানসহ এ সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় মোফাজ্জল এবং সাকিল পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আদায় করে আসছে।
নুর নবীর ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন রাতে সাকিল ও মোফাজ্জল তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নুর আলমের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করতে চায়। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার হাতে ইয়াবা ধরিয়ে দিয়ে ভিডিও ধারণ করে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা নিজেদের বিভিন্ন বাহিনীর সোর্স দাবি করে তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখায়।
পরবর্তীতে ভয়ে বাধ্য হয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি ক্লাবে গিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করে এনে দেয় নুর নবী। কিন্তু এরপরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। অভিযুক্তরা ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। পরিস্থিতির চাপে নিজের মোটরসাইকেল বিক্রি করে এক লাখ টাকা দেয়ার পরও থামেনি চাঁদাবাজি।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তাকে আরও ৮০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। সর্বশেষ নিজের ৫ বছর বয়সী মেয়ের কানের দুল বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা দিয়ে কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবুও তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
নুর নবী বলেন, আমি এখন নিজের বাড়িতে থাকতে পারছি না। প্রায় ২০ দিন পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে পালিয়ে ছিলাম। নির্যাতনের চাপে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কিন্তু পরিবারের কথা ভেবে ফিরে আসি। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনের খবর পেয়ে লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দ্রুত বিচার দাবি করেছে।