পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সাসপেন্ডেড পুলিশ সদস্য মো. আল জাবের তুষার ওরফে তুষার ইমরান (২৮)কে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারীর নির্দেশনায় এসআই মোহাম্মদ রেজাউল সঙ্গীয় ফোর্সসহ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে ঢাকা অভিমুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি করে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তুষার স্বীকার করেছেন, ইয়াবাগুলো তার গ্রামের বাড়ি কালাইয়া ও শৌলায় সঙ্গীদের মাধ্যমে বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা (নং-৩৭, তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬) দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে তুষারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তুষার বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আগেই পুলিশ সদস্য পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তার মা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ছেলের অপকর্মের কারণে ভোটারদের সমর্থন পাননি এবং পরাজিত হন। পরবর্তীতে অসুস্থতায় তার মৃত্যু হয়। পরিবার তুষারকে বিবাহ দিলেও তিনি মাদক ব্যবসায় আরও জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তুষারের পিতা জাকির মাতুব্বর বলেন, "তুষার বাড়িতে আসলে আর যায় না। ৫ দিনের ছুটি এনে ১০/১৫ দিন পরে ডিউটিতে যেত। অপসেন (অনুপস্থিতি) করার কারণে তাকে ৬ মাসের জন্য পুলিশ সদস্য পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এখন যা শুনেছি, তা আমার জানা নেই।"
বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার ঘটনা মাঝেমধ্যেই আলোচনায় আসে। পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা ও নিয়মিত নিরীক্ষা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। একই সঙ্গে মাদক পাচার রোধে সীমান্ত ও মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।