স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল (২৫০ শয্যা) ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দুইজন ভিন্ন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম একই ভবনে পরিচালিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকরী নেতৃত্ব নির্ধারণ নিয়ে।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হককে এবং পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সভাপতি হিসেবে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি করা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বর্তমানে পটুয়াখালী শহরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল ভবনেই মেডিকেল কলেজের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ আকারে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বতন্ত্র কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এছাড়া আলাদা করে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটিও গঠন করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে একই ভবনে কার্যক্রম চললেও দুইজনকে সভাপতি মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, "বর্তমানে যেহেতু ২৫০ শয্যা হাসপাতালেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাই পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীই সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।"
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত মনোনয়নগুলো আনুষ্ঠানিক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতির ভিত্তিতে কার্যকরী দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের মনোনয়ন দিয়ে থাকে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল আলাদা সত্তা হলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক জেলায় এগুলো একই ভবনে পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্পষ্ট নীতিমালা ও সমন্বয় না থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।