পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ১৩ নম্বর আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকা থেকে একটি ৩৫ কেভিএ ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সংঘটিত এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীসহ সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিরহাট এলাকার একটি ঘের সংলগ্ন স্থান থেকে পরিকল্পিতভাবে ট্রান্সফরমারটি চুরি করা হয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সকালে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ট্রান্সফরমারটি অনুপস্থিত দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরি ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরির ফলে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাটসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় পানির সংকটসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, "রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। সকালে দেখি ট্রান্সফরমার নেই। এভাবে পরিকল্পিতভাবে চুরি করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।"
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো যায়। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বানও জানান তারা।
এ বিষয়ে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "ঘটনার খবর পেয়েছি। টিম মাঠে রয়েছে। দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ও চোর চক্র শনাক্তে পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।"
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, "ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।"
বাংলাদেশে ট্রান্সফরমার, কেবল ও বিদ্যুৎ উপকরণ চুরির ঘটনা নতুন নয়। লোহার স্ক্র্যাপ হিসেবে এসব উপকরণ বিক্রির লোভে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সক্রিয় থাকে। এ ধরনের চুরি শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই করে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও ব্যাহত করে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি এ ধরনের অপরাধ রোধে জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।