পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় "জেন্ডার ইকুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন (গেটকা)" প্রকল্পের আওতায় উপজেলা লোকমোর্চা কমিটির ষান্মাসিক সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় স্থানীয় পর্যায়ের পরিবেশগত ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।
বাউফল উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে বেলা ১১টায় আয়োজিত এ সভায় লোকমোর্চা কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভাটি আয়োজন করে নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা প্রদান করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক অধ্যাপক ও বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনএসএসের গেটকা প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব হবে।"
স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয় আলোচনায়। এর মধ্যে ছিল খাল খনন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং দুর্যোগকালীন প্রস্তুতি। অংশগ্রহণকারীরা এসব সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরডিএস প্রতিনিধি আবদুল খালেক স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের সাফল্যের জন্য অপরিহার্য।
গেটকা প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোসা. নিলুফা ইয়াসমিন প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গেটকা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে পটুয়াখালী ও বাউফল নিয়মিত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত গেটকার মতো প্রকল্পগুলো স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন ও নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।