বরগুনার আমতলী উপজেলায় ৫০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত চার অভিযুক্তকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানিক দল। ২৫-২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র্যাব-১১, সদর কোম্পানির যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা এলাকার একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—১) মো. রিপন খলিফা, পিতা মো. এলাচ খলিফা, ২) এলাচ খলিফা, পিতা মৃত হাফেজ খলিফা, ৩) মোসা. মনিকা খলিফা, পিতা এলাচ খলিফা, এবং ৪) মোসা. নুরজাহান বেগম, স্বামী এলাচ খলিফা। সকলের বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার শাখারিয়া এলাকায়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদী ও অভিযুক্তরা একই এলাকার প্রতিবেশী। প্রধান অভিযুক্ত এলাচ খলিফা বাদী পক্ষের কাছ থেকে ১,০০০ টাকা ধার নিয়ে ৫০০ টাকা ফেরত দেন। অবশিষ্ট ৫০০ টাকা ফেরত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও ঝগড়াবিবাদ চলছিল।
২১ এপ্রিল দুপুরে বাদী পক্ষের লোকজন গরু চরানোর উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী রফিক গাজীর জমিতে গেলে অভিযুক্তরা পূর্বের পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে পুনরায় বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাদী পক্ষের সদস্যদের এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ এপ্রিল রাতে গুরুতর আহত একজন ভুক্তভোগী মারা যান। এর ভিত্তিতে আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালীর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ জানান, "ঘটনার পর থেকেই র্যাব-৮ ছায়া তদন্ত শুরু করে। অপরাধীরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে এলাকা ত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যায় এবং অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু র্যাব-৮ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।"
তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশে পারিবারিক ও প্রতিবেশী বিরোধ থেকে সহিংসতা ও হত্যার ঘটনা দুঃখজনকভাবে সাধারণ। ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক বিরোধ দ্রুত আইনি সমাধানে না আনলে তা মারাত্মক সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। র্যাব ও পুলিশ নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও সমানভাবে জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।