মালয়েশিয়া সরকার দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের (ম্যাক) নতুন প্রধান হিসেবে সাবেক বিচারপতি আব্দুল হালিম আমানকে নিয়োগ দিয়েছে। আগামী ১৩ মে থেকে কার্যকর এই নিয়োগের মাধ্যমে সরকার সুশাসন জোরদার ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ত্বরান্বিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
মালয়েশিয়ার প্রধান সচিব শামসুল আজরি আবু বাকার শনিবার এক বিবৃতিতে জানান, সাবেক বিচারপতি আব্দুল হালিম আমান ১৩ মে থেকে মালয়েশিয়ান অ্যান্টি-করাপশন কমিশনের (ম্যাক) দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। "তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও উচ্চ সততার মাধ্যমে তিনি সুশাসন জোরদার, জনআস্থা বৃদ্ধি এবং দেশের স্বার্থে দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি তীব্রতর করতে সক্ষম হবেন," বলেন শামসুল আজরি।
বর্তমান ম্যাক প্রধান আজাম বাকির দীর্ঘমেয়াদী কর্মকাল দুটি পৃথক সময়ে শেয়ারহোল্ডিং সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত হয়েছিল, যার প্রথমটি ২০২২ সালে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া তাঁর চুক্তি বারবার নবায়ন করা সত্ত্বেও, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আজামসহ ম্যাকের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য বিধি লঙ্ঘন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আজাম ও ম্যাক এই অভিযোগগুলোকে "ভিত্তিহীন" বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই অভিযোগগুলো প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রশাসনের মধ্যে বিভেদ গভীর করেছে, যেখানে কিছু মূল জোটসঙ্গী প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি দমনে প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকার আজামের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগের তদন্ত করলেও, পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট তদন্তের প্রেক্ষিতে এখনও তা প্রকাশ্যে আনেনি।
নতুন নিয়োগটি দেশের রাজা সুলতান ইব্রাহিম করেছেন, যিনি সম্প্রতি বলেছিলেন যে, তিনি এই পদটিকে রাজনীতিকরণ থেকে মুক্ত রাখতে নতুন প্রধান নির্বাচন করবেন। শনিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, রাজার এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের ভিত্তিতে রাজা মূল সরকারি সংস্থাগুলোর প্রধান নিয়োগ দিতে পারেন। রাজতন্ত্র মূলত আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করলেও, দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজা বিরল বিবেচনাধর্মী ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।
ম্যাকের নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংস্থাটি কীভাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে এবং রাজনৈতিক চাপ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা মালয়েশিয়ার সুশাসন ও জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।