জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় ইওয়াতে প্রদেশে দুটি বনদাবান চতুর্থ দিনের মতো দাবদাহ চালিয়ে যাচ্ছে। ১,২২৫ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী ও বিমানবাহিনীর সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ অভিযান চললেও আগুন ওৎসুচি শহরের আবাসিক এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার ফলে ৩,২৩৩ জন বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল বুধবার বিকেলে ইওয়াতে প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রথম আগুন থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ওৎসুচি শহরের আবাসিক এলাকার কাছাকাছি দ্বিতীয় আগুন ধরে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) নাগাদ আগুন চতুর্থ দিনের মতো দাবদাহ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ৭৩০ হেক্টর (১,৮০০ একর) এরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও একাধিক প্রদেশের হেলিকপ্টার থেকে আকাশপথে পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। স্থলপথে ১,২২৫ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী, যার মধ্যে অন্যান্য প্রদেশ থেকে প্রেরিত দলও অন্তর্ভুক্ত, আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে।
ওৎসুচি শহরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট ১,৫৪১টি পরিবার ও ৩,২৩৩ জনের জন্য সরিয়ে নেওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮টি ভবন, যার মধ্যে একটি আবাসিক বাড়িও অন্তর্ভুক্ত, পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মাধ্যমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বনদাবান জাপানের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ওফুনাতো দাবান (৩,৩৭০ হেক্টর) এবং ১৯৯২ সালের কুশিরো দাবান (১,০৩০ হেক্টর) এর পরেই এর অবস্থান।
জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের জরুরি নির্দেশাবলি মেনে চলতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূল পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।