পটুয়াখালীতে পুলিশের ভয়ে কানের ভেতর ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখা এক যুবকের কান থেকে ৯ দিন পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান রাজিব এই সার্জারি সম্পন্ন করেন।
নিরব ইসলাম (১৯) নামের ওই যুবক গত ২২ এপ্রিল পটুয়াখালীর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হন। তাঁর পরিবার জানায়, নিরবকে সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যেই কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে ভর্তির পর থেকেই তিনি কানে তীব্র ব্যথার অভিযোগ করতে থাকেন। পরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের সহযোগিতায় তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, নিরবের কানের ভেতর দুটি ইয়াবা ট্যাবলেট আটকে আছে। এরপর প্রায় এক ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ট্যাবলেট দুটি সফলভাবে বের করে আনা হয়। বর্তমানে রোগী আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিরব ইসলাম জানান, প্রায় ৯ দিন আগে ইয়াবাসহ রাস্তায় যাওয়ার সময় তিনি সামনে পুলিশ টহল দেখতে পান। ধরা পড়ার ভয়ে তিনি দ্রুত ট্যাবলেট দুটি কানের ভেতর ঢুকিয়ে রাখেন। পরে বাড়িতে গিয়ে নিজে সেগুলো বের করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিষয়টি পরিবারকে জানালে প্রথমে তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাঁকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
মাদক নিরাময় কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান শিবলী বলেন, "নিরবকে ভর্তি করার পর থেকেই তাঁর কানে তীব্র ব্যথা ছিল। চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে কানের ভেতর ইয়াবা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।"
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান রাজিব বলেন, "রোগীকে পরীক্ষা করে কানের ভেতর ট্যাবলেটের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ধরনের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কানের ভেতর বিদেশি বস্তু প্রবেশ করলে স্থায়ী ক্ষতি, সংক্রমণ বা শ্রবণশক্তি হ্রাসের আশঙ্কা থাকে।"
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য সেবন ও পাচার রোধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন নিরাময় কেন্দ্র কাজ করছে। তবে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ধরা পড়ার ভয়ে মাদক লুকিয়ে ফেলার এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।