পটুয়াখালীতে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যে জাতীয় ক্যাম্পেইন-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এ ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলমান এ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ১২০ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হবে। ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলাজুড়ে ২ হাজার ৭১৮টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং এসব কেন্দ্রে ২ হাজার ৭১৮ জন টিকাদান কর্মী ও ৮ হাজার ১৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি আসমা আক্তারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান ক্যাম্পেইনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান, উপজেলাভিত্তিক টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ৩৪ হাজার ৫৬০ জন, পটুয়াখালী পৌরসভায় ৯ হাজার ১৬৫ জন, বাউফলে ৪০ হাজার ৪০২ জন, দশমিনায় ১৭ হাজার ৬৯৮ জন, দুমকিতে ৮ হাজার ৩৬৫ জন, গলাচিপায় ৩৬ হাজার ৯৩১ জন, কলাপাড়ায় ৩১ হাজার ৫৫০ জন এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১১ হাজার ৪৪৯ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী অভিভাবকদের সচেতন করে বলেন, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। তিনি নির্ধারিত বয়সী কোনো শিশু যেন টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে সেজন্য সকল অভিভাবককে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগের আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং টিকার মান নিয়ন্ত্রণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে রক্ষা করা হবে।