পটুয়াখালির বাউফলে 'পিলো' ব্র্যান্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়েফার বিস্কুট সরবরাহ এবং বিষয়টি ফাঁস হলে ব্যবসায়ীকে গোপন রাখতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এক দোকানি এ অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ভাড়া করা দোকানে ব্যবসা করেন সোহানুর রহমান। তার দোকানের অধিকাংশ ক্রেতাই স্কুলপড়ুয়া শিশু। গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির একজন পণ্য বিতরণ প্রতিনিধি তার দোকানে 'পিলো' ব্র্যান্ডের ওয়েফার বিস্কুট সরবরাহ করেন। প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এবং ব্যস্ততার কারণে সোহানুর পণ্যের মেয়াদ যাচাই করেননি।
কয়েকদিন পর ওই বিস্কুট খেয়ে এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি সোহানুরের নজরে আসে। পরবর্তীতে পণ্যের প্যাকেট পরীক্ষা করে তিনি নিশ্চিত হন যে, সরবরাহকৃত বিস্কুটের মেয়াদ অতিক্রান্ত।
সোহানুর রহমান অভিযোগ করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে জানালে তিনি ঘটনা গোপন রাখতে চাপ দেন। "বিষয়টি প্রকাশ পেলে আমার ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো কোম্পানি আমাকে পণ্য সরবরাহ করবে না"—এ মর্মে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অসুস্থ শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পণ্য বিতরণ প্রতিনিধি সুজন হোসেন বলেন, "গুদাম থেকে ভুলবশত মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু পণ্য সরবরাহ হয়ে থাকতে পারে। তবে হুমকির অভিযোগ আমি অস্বীকার করছি।"
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ডিলার তসলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অনিরাপদ পণ্য বিক্রি বা সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা স্থানীয় প্রশাসন এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
এ ঘটনায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।