ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে পটুয়াখালী বিএনপিতে আটজন নেত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও মহিলা দলের নেত্রীরা ইতিমধ্যে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে এই আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাচাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিলের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিস্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ ১০ থেকে ১২ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পটুয়াখালী বিএনপির যে আট নেত্রী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী, তারা হলেন: লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার, আনোয়ারা খান, সালমা আলম লিলি, নাজমুন নাহার নাজু, আফরোজা বেগম সীমা, ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, জেসমিন জাফর ও ফেরদৌসী বেগম মিলি।
লায়লা ইয়াসমিন তালুকদার জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি, আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বর্তমানে পটুয়াখালীর একটি বেসরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
আনোয়ারা খান জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্জ শাহজাহান খানের সহধর্মিণী। শাহজাহান খান ২০২২ সালের নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন।
সালমা আলম লিলি পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের সহধর্মিণী এবং বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
নাজমুন নাহার নাজু জেলা বিএনপির সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং ১৯৯০-এর দশক থেকে দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
আফরোজা বেগম সীমা বর্তমানে জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ফারজানা ইয়াসমিন রুমা একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। উভয়েই দলের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
জেসমিন জাফর দীর্ঘদিন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দলীয় গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন।
ফেরদৌসী বেগম মিলি কলাগাছিয়া এসএম সেকান্দার আলী চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি জেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং 'অদম্য নারী' পুরস্কারপ্রাপ্ত।
জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি বলেন, "প্রার্থী যে-কেউ হতেই পারে। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে—বিগত ১৬ বছর যারা দলের হয়ে কাজ করেছে এবং যারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত, তাঁদেরকেই সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।"
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনগুলো দলীয় প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে বণ্টিত হয়। বিএনপি বর্তমানে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে উপস্থিত না থাকলেও দলীয় প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।