পটুয়াখালির দুমকিতে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা পুনরায় আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিরে এসেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামে স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় ১২টি ঘোড়া অংশ নেয় এবং হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র ও আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টায় দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২টি ঘোড়া এতে অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী কয়েকজন কিশোর অশ্বারোহী হিসেবে মাঠে নামে, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে।
আয়োজনস্থলে হাজারো মানুষের সমাগমে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। মাঠের পাশে অস্থায়ীভাবে বিভিন্ন খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকানপাট বসে, যা পুরো আয়োজনকে গ্রামীণ মেলার রূপ দেয়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।
দর্শনার্থীরা জানান, বর্তমান সময়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা খুব একটা দেখা যায় না। এমন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখে তারা আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী রাকিব হোসেন বলেন, "নিজ এলাকায় এমন আয়োজন দেখতে পেরে আমি আনন্দিত। এতে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কথা মনে পড়ে যায়।"
একজন ঘোড়ার মালিক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘোড়দৌড়ে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকবার বিজয়ী হয়েছেন। সুস্থ থাকলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ইচ্ছা তার রয়েছে।
মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম তরিক খান বলেন, "গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থানীয় উদ্যোগে এমন আয়োজন সম্পন্ন হওয়ায় আমরা আনন্দিত।"
আয়োজকরা জানান, ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও মানুষের আনন্দের জন্যই এ আয়োজন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হওয়ায় তারা স্থানীয় প্রশাসন, দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের উপকূলীয় ও গ্রামীণ এলাকায় ঘোড়দৌড় ঐতিহাসিকভাবে উৎসব ও সামাজিক আয়োজনের অংশ ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এ ঐতিহ্য ক্রমেই ম্লান হয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায় থেকে এমন উদ্যোগ গ্রামীণ সংস্কৃতি পুনরুজ্জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।