ভোলার মনপুরা উপজেলায় দুই সন্তানের সামনে এক গৃহবধূকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গিয়ে ওই গৃহবধূর পিতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামি মিরাজকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী পেশায় মহিষ পালনকারী এবং চর এলাকায় মহিষের দেখাশোনা ও রাত্রিযাপন করেন। ফলে ওই গৃহবধূ তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়িতে একাই থাকতেন।
ঘটনার রাতে মিরাজসহ তিন-চারজন দুর্বৃত্ত প্রথমে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তাঁর ১০ বছরের শিশুকন্যার সামনেই তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর অপরাধীদের ধরতে ওঁত পেতে থাকেন ভুক্তভোগীর পিতা। রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে অভিযুক্ত মিরাজ তার সহযোগীদের নিয়ে আবারও ওই বাড়ির কাছে এলে তিনি মিরাজকে শনাক্ত করে ফেলেন এবং ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় মিরাজ ও তার দলবল ভুক্তভোগীর পিতার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালীতে পাঠায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে মনপুরা থানায় মিরাজকে প্রধান আসামি ও অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মিরাজকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত মিরাজ হাজিরহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামালের ছেলে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মিরাজসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই আমরা প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ নৃশংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।