পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গত দুই সপ্তাহে কুকুরের কামড়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চিকিৎসা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত অন্তত ১২ জন কুকুরে কামড়ানো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও অনেক আহত ব্যক্তি নাম নিবন্ধন ছাড়াই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের আক্রমণের ঘটনা বেড়ে গেছে, এতে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, “কুকুরে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি, এমনকি বাজারেও ভ্যাকসিন মিলছে না।”
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সেন জানান, কোম্পানির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ভ্যাকসিনের সংকট তৈরি হয়েছে, ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সময়মতো গ্রহণ না করলে রোগটি প্রাণঘাতী হতে পারে। ইতোমধ্যে পটুয়াখালী জেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট চলমান থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।