পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা সেতুর টোলপ্লাজায় ৫০০ টাকা ঘুষ নিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে টোল কালেক্টর মো. নুরুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২২ টন ধারণক্ষমতার ট্রাকে অতিরিক্ত ২২ টন ৭০০ কেজি পণ্য বহনের ঘটনাটি স্থানীয়রা আটক করে প্রমাণ করলে ইজারাদার প্রতিষ্ঠান রাত ৯টার দিকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যশোর-ট-১১-৩১৩৬ নম্বরের একটি ট্রাকের চালকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ঘুষ নিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই অবস্থায় ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে টোল কালেক্টর মো. নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা ট্রাকটি আটক করে পায়রা সেতুর ওজন স্কেলে তুললে দেখা যায়, ২২ টন ধারণক্ষমতার ট্রাকে মোট ৪৪ টন ৭০০ কেজি পণ্য বোঝাই করা হয়েছে—যা অনুমোদিত সীমার প্রায় দ্বিগুণ।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা টোলপ্লাজার সামারে অবস্থান নেন। পরে টোলপ্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
রাত ৯টার দিকে টোল প্লাজার ইজারাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স বেস্ট ইস্টার্নের অপারেশন ডিরেক্টর সজল বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে অভিযুক্ত টোল কালেক্টর মো. নুরুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ও পেশাগত সততা লঙ্ঘনের দায়ে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
উল্লেখ্য, এর আগেও পায়রা সেতুর টোলপ্লাজায় ঘুষ নিয়ে ওভারলোড যানবাহন ছেড়ে দেওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত মালবোঝাই যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ এবং সেতুর কাঠামোগত স্থায়িত্বের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
পায়রা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টোল সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।