মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের অস্থায়ী অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির সংকেত মিলেছে। উভয় পক্ষই এই চুক্তিকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দাবি করছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে এবং পাকিস্তানে পরবর্তী আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের মহাসচিব এই অস্ত্রবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সকল পক্ষকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষা ও মানবিক সংকট লাঘবে সংঘাত বন্ধ করা জরুরি। পাকিস্তানসহ যেসব দেশ এই মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অস্ত্রবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। তবে সংঘাত শুরুর আগের ৭০ ডলারের তুলনায় দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবিত ১০-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পথও এই অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে খুলে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে 'কাজ করার মতো' বলে উল্লেখ করেছেন এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তবে আঞ্চলিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল নয়। ইসরাইল স্পষ্ট করেছে যে, এই অস্ত্রবিরতির আওতায় লেবানন আসেনি এবং সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
মানবিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। লেবাননে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ও বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি জরুরি ত্রাণ সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অস্ত্রবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, লেবাননের পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আগামী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন নজর রাখবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী আলোচনার দিকে।