মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, মস্কোও যদি হামলা বন্ধ করে তবে কিয়েভ 'সেই একই ধরনের সাড়া' দিতে প্রস্তুত। বুধবার এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে তিনি জানান, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ সুগম করতে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্ত্রবিরতির প্রতি ইউক্রেনের সমর্থন রয়েছে।
কিয়েভ থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এক্স প্ল্যাটফর্মে লেখেন, "ইউক্রেন সর্বদা ইউরোপে আমাদের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পরিচালিত যুদ্ধে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে, এবং আমরা মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সেই অস্ত্রবিরতিকে সমর্থন করি যা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ প্রশস্ত করে।" তিনি আরও যোগ করেন, "সবার কাছেই স্পষ্ট যে অস্ত্রবিরতি চুক্তির জন্য সঠিক পূর্বশর্ত তৈরি করতে পারে।"
ইউক্রেন পূর্বেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন 'সিদ্ধান্তমূলক' পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। ইরান রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হাজার হাজার ড্রোন সরবরাহ করেছে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। কিয়েভ বারবার মস্কোকে চার বছরের যুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির আলোচনায় বসতে পারে। অন্যদিকে, রাশিয়া বলছে, যুদ্ধ বন্ধ করার আগে শান্তির বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন।
প্রাসঙ্গিকভাবে, ইউক্রেন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ২০০ জনেরও বেশি সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সহায়তা করতে। জেলেনস্কি বলেন, "ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞ সামরিক দলগুলো অঞ্চলটিতে কাজ চালিয়ে যাবে নিরাপত্তা সক্ষমতা আরও উন্নত করতে।" এই পদক্ষেপটি ইউক্রেনের ড্রোন-প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কিয়েভ আন্তর্জাতিক সমর্থন ধরে রাখতে চাইছে। তবে রাশিয়ার অবস্থান এখনও অনমনীয়, এবং পশ্চিমা দেশগুলোর মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে সরে যাওয়ায় ইউক্রেনের জন্য সমর্থন সংগ্রহ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
জেলেনস্কির এই বক্তব্য ইউক্রেনের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ, যেখানে আঞ্চলিক অস্ত্রবিরতিকে বিশ্বব্যাপী সংঘাত নিরসনের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান এখনও দূরবর্তী, কারণ উভয় পক্ষের শর্তাবলি ও কৌশলগত লক্ষ্যে মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।