
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেছেন, ইরানকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যার কোনো ছাড় বা ব্যতিক্রম থাকবে না। তেহরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের অস্ত্রবিরতি চুক্তির এক দিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই ঘোষণা দেন।
ওয়াশিংটন থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে স্পষ্ট করেন যে ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র পাঠানো যেকোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই ঘোষণায় কোনো দেশের জন্য ব্যতিক্রম বা অব্যাহতির সুযোগ রাখা হয়নি বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে, মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের অস্থায়ী অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, যা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার শর্ত সাপেক্ষে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের এই নতুন শুল্ক ঘোষণা সেই কূটনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক সামরিক সহযোগিতা নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫০% শুল্কের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বজায় রেখেছে। পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর ওপর ২৫% শুল্কের হুমকি দিয়েছিল, যা এখন ৫০%-এ উন্নীত হলো অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার কিছু দেশ, যারা ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তারা এই পদক্ষেপের প্রভাব মূল্যায়ন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টার মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক চাপের নতুন হাতিয়ার হিসেবে ৫০% শুল্কের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে কী প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।