ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ এপ্রিল) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের পর শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটি অস্বাভাবিক আচরণ করায় স্থানীয় নারীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণের ঘটনাটি সামনে আসে। রাতেই তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— চরপাতা ইউনিয়নের ফারুক (৪২) ও মেদুয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিম (২৭)। দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. জোনায়েত হোসেন জানান, শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং চলছে। তিনি আরও জানান, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতখান থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপুল চন্দ্র দাস জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের শনিবার ভোলা আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তকরণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভোলা জেলায় শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ধর্ষণের মামলা ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ওসি ফখরুল ইসলাম বলেন, "শিশু নির্যাতনের কোনো ঘটনাই আমরা প্রশ্রয় দিই না। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
শিশু নির্যাতন রোধে সমাজসচেতনতা, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজন। পুলিশি তৎপরতার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এই ধরনের অপরাধ কমাতে সহায়ক হতে পারে।