রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত চার রোহিঙ্গা সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তারের সময় মানবপাচারে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও দুটি ভিসার প্রিন্ট কপি উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আরিফা আখতার প্রীতি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিঝিল থানা এলাকার একটি হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে ডিবির একটি বিশেষ টিম চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. ফেরদৌস, নুরু বিবি দূর আক্তার (১৯), উম্মে কুলসুম (২০) এবং আইনের সংঘাতে জড়িত এক অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
অভিযানে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও ভিসার প্রিন্ট কপিগুলো মানবপাচারের নেটওয়ার্ক পরিচালনায় ব্যবহৃত হতো বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মানবপাচার দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির ও আশেপাশের এলাকাগুলোকে মানবপাচারকারীরা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পাচারের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই চক্রগুলো ভেঙে দিলেও নতুন করে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এসি আরিফা আখতার প্রীতি বলেন, "গ্রেপ্তারকৃতরা মানবপাচারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংযোগ হিসেবে কাজ করত। উদ্ধারকৃত উপকরণগুলো পরীক্ষা করে পাচারের বিস্তারিত মডেল ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।"
মানবপাচার রোধে ডিবি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি তৎপরতার পাশাপাশি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে এই অপরাধ নির্মূলে সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।