ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক বসতভিটা ও ৭০ একর জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। আদালতের রায় পাওয়ার পরও জমি ফেরত না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ আইচা থানাধীন নজরুল নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর মজু সর্দার বাজার এলাকায়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০ টার দিকে দক্ষিণ আইচা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী ফারুক ও হাবিব বলেন, দক্ষিণ আইচা থানাধীন নজরুল নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর মজু সর্দার বাজার এলাকায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তি প্রায় ৭০ বছর ধরে ভোগদখলে ছিল। ১৯৪০ সালে তাদের দাদা মৃত আবদুল ওয়াজেদ ও মৃত ইসমাইল মিয়া, স্থানীয় সত্যবৃত্ত দাসের কাছ থেকে ৭০ একর জমি ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে বসবাস শুরু করেন। ২০০০ সালে স্থানীয় সোনা মিয়া সর্দার গংরা আমার দাদা মৃত আবদুল ওয়াজেদ মিয়ার পরিবারের ওয়ারিশদের কাছ থেকে মাত্র ১ একর ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করলেও প্রতারণার মাধ্যমে পুরো ৭০ একর জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বসতঘর ভেঙে তাদের উচ্ছেদ করা হয়। এই দখল প্রক্রিয়ায় নজরুল নগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন তারা।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনার পর আদালতে মামলা দায়ের করলে তাদের পক্ষে রায় আসে। কিন্তু অভিযুক্তরা সেই রায় বাস্তবায়ন না করে বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। গত ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, নিরাপত্তাহীনতার কারণে দীর্ঘদিন তারা জমির কাছে যেতে পারেননি। সম্প্রতি গত ৭ মার্চ, জমি ও বসতভিটা দেখতে গেলে সোনা মিয়া সর্দার ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর সর্দারের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হন। বর্তমানে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে তাদের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত সোনা মিয়া সর্দার ও তার ছেলে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে গেলে তাদেরকে পাওয়া যায়নি। এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের রায়ে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।