দুই মাসের সংকোচনের পর মার্চে চীনের উৎপাদন খাত আবারও সম্প্রসারণে ফিরতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস। তবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধজনিত সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্ন ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর জরিপে অংশ নেওয়া ২৮ জন অর্থনীতিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন, চীনের সরকারি উৎপাদন খাতের ক্রয় ব্যবস্থাপক সূচক (PMI) মার্চে বেড়ে ৫০.১-এ পৌঁছাতে পারে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৪৯.০। ৫০-এর ওপরে সূচক মানেই সম্প্রসারণ, আর নিচে থাকলে সংকোচন নির্দেশ করে।
এই তথ্য চীনের National Bureau of Statistics-এর জরিপের ভিত্তিতে প্রস্তুত এবং মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় এবং ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাস চীনের উৎপাদন খাত সংকোচনের মধ্যে ছিল। দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমে যায় এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে উত্তেজনাও আস্থায় প্রভাব ফেলে।
তবে রপ্তানি খাত তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। ২০২৫ সালে মার্কিন শুল্ক সত্ত্বেও পণ্য রপ্তানি স্থিতিশীল ছিল এবং ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে তা আরও বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামান্য হলেও PMI সূচকের উন্নতি নীতিনির্ধারকদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হতে পারে, কারণ তারা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চাইছেন।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হয় এবং জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের জ্বালানি সরবরাহ সীমিত হওয়ায় পরিবহন ও কাঁচামালের খরচ বেড়ে গিয়ে চীনা উৎপাদকদের মুনাফায় চাপ তৈরি হতে পারে।
বেসরকারি খাতের PMI (RatingDog) মার্চে ৫১.৬-এ নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৫২.১। বিশেষ করে তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অর্থনীতিবিদ শু তিয়ানচেন বলেছেন, ব্যবসার ওপর চাপ কমাতে সরকার সস্তা ঋণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে পারে।
চীনা নীতিনির্ধারকরা ২০২৬ সালের জন্য ৪.৫%–৫% প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা আগের বছরের ৫% প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম। পাশাপাশি অবকাঠামো, জনসেবা, ভোগব্যয় ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ১০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, রপ্তানি খাতের শক্তি চীনের উৎপাদন খাতকে সাময়িকভাবে চাঙ্গা করলেও বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি সংকট ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়ে গেছে।