মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত অনিশ্চয়তার কারণে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্ক করেছে মরগ্যান স্ট্যানলি। প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক ইকুইটির রেটিং কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড ও নগদ বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে এবং মার্কিন বাজারকে তুলনামূলক ‘ডিফেন্সিভ’ বা নিরাপদ হিসেবে দেখছে।
Morgan Stanley জানিয়েছে, তারা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের রেটিং “ওভারওয়েট” থেকে কমিয়ে “ইক্যুয়াল ওয়েট” করেছে এবং একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ও নগদ বিনিয়োগ “ওভারওয়েট” করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কতটা এবং কতদিন ব্যাহত হবে—এই অনিশ্চয়তা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ভবিষ্যৎকে অস্থির করে তুলেছে।
বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম মার্চে প্রায় ৫৯% বেড়েছে, যা ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলারের ওপরে উঠেছে।
মরগ্যান স্ট্যানলি সতর্ক করেছে, যদি তেলের দাম ১৫০–১৮০ ডলারের মধ্যে স্থির থাকে, তাহলে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের মূল্যায়ন প্রায় ২৫% পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ কমিয়ে “ইক্যুয়াল ওয়েট” করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়ে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তারা মনে করছে।
তবে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারকে এখনও তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রাখছে মরগ্যান স্ট্যানলি। তাদের মতে, উচ্চ আয়ের প্রবৃদ্ধি (earnings growth) যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় রাখছে।
গত বছরের প্রবণতার বিপরীতে বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আবারও মার্কিন সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে বৈশ্বিক পুঁজি প্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার ও বন্ডে বেড়েছে, যা দেশটিকে পুনরায় একটি ‘সেফ হ্যাভেন’ হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি আমদানির ওপর কম নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সংকটকালে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে সহায়ক।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।