তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে জাপানের এক আইনপ্রণেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। এ পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে দ্রুত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে জাপান সরকার।
বার্তা সংস্থা Reuters জানিয়েছে, চীন সোমবার জাপানের সংসদ সদস্য Keiji Furuya-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তিনি প্রধানমন্ত্রী Sanae Takaichi-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং জাপান-তাইওয়ান সংসদীয় গ্রুপের প্রধান।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ফুরুয়া “তাইওয়ানের স্বাধীনতাপন্থী শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ” করেছেন এবং বেইজিংয়ের আপত্তি উপেক্ষা করে একাধিকবার তাইওয়ান সফর করেছেন। সর্বশেষ চলতি মাসে তিনি তাইপেতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং বিদেশি রাজনীতিকদের সফরকে ‘এক চীন নীতির’ পরিপন্থী বলে মনে করে। অন্যদিকে, তাইওয়ান সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
জাপানের উপ-প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব Masanao Ozaki বলেছেন, “ভিন্ন মত দমনে এ ধরনের একতরফা পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
ফুরুয়া নিজে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার তেমন প্রভাব পড়বে না, কারণ তার চীনে কোনো সম্পদ নেই এবং বহু বছর ধরে তিনি মূল ভূখণ্ডে যাননি। তিনি বলেন, জাপান-তাইওয়ান সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করাই তাদের লক্ষ্য।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Mao Ning বলেন, তাইওয়ান ইস্যু চীনের ‘মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু’ এবং এটি এমন একটি ‘লাল রেখা’, যা অতিক্রম করা যাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান ইস্যুকে ঘিরে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। গত বছরও তাইওয়ান প্রসঙ্গে মন্তব্যের জেরে জাপানের আরও কয়েকজন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল চীন।