ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর অর্ধেক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন মাসের জন্য কার্যকর এই পদক্ষেপে প্রতি লিটারে প্রায় ২৬.৩ অস্ট্রেলিয়ান সেন্ট দাম কমবে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ঘোষণা দেন—জ্বালানি ও ডিজেলের ওপর আরোপিত এক্সসাইজ ট্যাক্স অর্ধেক করা হবে এবং ভারী যানবাহনের রোড ইউজার চার্জও সাময়িকভাবে তুলে দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থা তিন মাস কার্যকর থাকবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২.৫৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। একই সঙ্গে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ২৬.৩ সেন্ট কমবে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার মাধ্যমে আগে বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হতো। এর প্রভাবে মার্চে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫৯% বেড়ে ১১৫ ডলারের বেশি হয়েছে।
জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি এবং পেট্রোল প্রায় ২.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
সরকার জানিয়েছে, এটি বৃহত্তর জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ। ইতোমধ্যে দেশটি অভ্যন্তরীণ মজুত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করেছে এবং মানদণ্ড শিথিল করেছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে স্পট কার্গো (তাৎক্ষণিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনা) ক্রয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে বেসরকারি খাতের ঝুঁকি কমে।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মজুত বর্তমানে ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হলেও তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড—৯০ দিনের সরবরাহ—থেকে অনেক কম। বর্তমানে দেশটিতে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের প্রায় ৩০ দিনের এবং পেট্রোলের ৩৯ দিনের মজুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ সতর্ক করে বলেন, স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতির প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর।