পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় লঞ্চঘাটে লঞ্চ ও পন্টুনের মাঝখানে চাপা পড়ে আব্দুর রহমান গাজী নামের ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের ডান পায়ের পাতা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শনিবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে উপজেলার নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুর রহমান উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামের বাসিন্দা মো. রাসেল গাজীর ছেলে। বর্তমানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে নুরাইনপুর লঞ্চঘাটের পন্টুনে অবস্থান করছিল আব্দুর রহমান। বিকেল চারটার দিকে কালাইয়া লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চটি নুরাইনপুর ঘাটে ভেড়ে। এ সময় যাত্রীরা লঞ্চে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। একপর্যায়ে লঞ্চটি ধীরে ধীরে পন্টুনের একদম ঘেঁষে এলে আব্দুর রহমান পন্টুন থেকে লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করে। ঠিক সেই মুহূর্তে পন্টুন ও লঞ্চের প্রবল চাপে তার ডান পা মাঝখানে আটকে যায়। এতে তার পায়ের পাতার মাংস ও হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কিশোরটির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রউফ জানান, কিশোরটির ডান পায়ের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। সেখানে উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাকে সুস্থ করা সম্ভব নয় বলেই দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। কালাইয়া বন্দর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আল মামুন জানান, ঘটনার খবর পেয়েই তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার পর নুরাইনপুর ঘাট এলাকায় যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, লঞ্চ ভেড়ানোর সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।