পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। ঈদের দিন সকাল থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়ে দ্বিতীয় দিনে তা ঢলে রূপ নেয়। থেমে থেমে বৃষ্টির পর রোববার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের সকালে পর্যটকদের উপস্থিতি শুরু হলেও দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং পরদিন দুপুর নাগাদ তা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছে।
সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা যায়, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ নেমে পড়ছেন সমুদ্রের নোনা জলে। অনেকে বেঞ্চে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার শিশু থেকে বয়স্করা বালুচরে খেলায় মেতে উঠেছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রাশেদ জোয়ারদার বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় ভ্রমণে স্বস্তি পাচ্ছেন তারা।
অন্য পর্যটক সুমি আক্তার বলেন, সমুদ্রের ঢেউ ও খোলামেলা পরিবেশ উপভোগ্য সময় এনে দিয়েছে।
পর্যটকের ভিড়ে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও। রমজান মাসজুড়ে পর্যটক কম থাকলেও ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ হোটেল ও মোটেলে বুকিং প্রায় পূর্ণ। আবাসিক হোটেল কানসাই ইন-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন জানান, পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায় গতি ফিরেছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক জয়ন্ত বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় সৈকতে লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির বিচরণ বেড়েছে। ফলে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক দৃশ্যও উপভোগ করছেন আগত দর্শনার্থীরা।