ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ে অর্ধশতাধিক পরিবারের বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন। একই সময়ে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন ছিল হাজারো পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টার দিকে দক্ষিণ দিক থেকে হঠাৎ প্রবল বেগে ঝড় আঘাত হানে চরফ্যাশনে। শুরুতে হালকা বাতাস থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা তীব্র রূপ নেয়। ঝড়ের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি শিলাবৃষ্টি হয়। এতে টিনের ছাউনি উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। আতঙ্কিত মানুষ রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়ায়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়ন। এছাড়া কুকরিমুকরি, চরপাতিলা, চরনিজাম, চর ফারুকী, চরমানিকা ও নজরুল নগরসহ একাধিক এলাকায় ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কাঁচা ঘরে বসবাসকারী অধিকাংশ পরিবারই ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।
ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ জানান, প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। সাহরির আগেই হঠাৎ তীব্র ঝড়ে তার ঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, “ঈদের আর কয়েক দিন বাকি। এর আগেই মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছি। আমাদের ঈদের আনন্দ শেষ হয়ে গেছে।”
একই ইউনিয়নের হাসান, ইব্রাহিম, জসিম, আক্তার, রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, আনোয়ার ও গিয়াস উদ্দিনসহ আরও অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চরমানিকা ইউনিয়নের চরকচ্চপিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী সেলিম হাওলাদার জানান, ঝড়ে তার বাজারের দোকানঘরের চালাও উড়ে গেছে।
ঢালচর ইউনিয়নের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ ঝড়ে অন্তত ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় সোমবার গভীর রাতের ঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে পড়েছে সহস্রাধিক গাছপালা। ভেঙে পড়েছে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ে গেছে সঞ্চালন লাইন।
আমতলী পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, অন্তত ৮টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া এবং ১১ হাজার ভোল্টেজ লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে আমতলীর প্রায় ৬৩ হাজার এবং তালতলীর প্রায় ৩১ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। আমতলীতে টানা ১৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় পৌর এলাকায় পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রান্নাবান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তি বাড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় সাহরি খেতেও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।