পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনের সঙ্গে ছুটি কাটাতে নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে উপকূলীয় জেলা ভোলায়। রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে ঘাটে পৌঁছাচ্ছে, ফলে যাত্রাপথজুড়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সকালের পর থেকেই একের পর এক লঞ্চ ভোলার বিভিন্ন ঘাটে ভিড়ছে। অধিকাংশ লঞ্চেই তিলধারণের জায়গা নেই। যাত্রী নামিয়ে দ্রুত আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে ফিরে যাচ্ছে লঞ্চগুলো। একই চিত্র দেখা গেছে ভোলা–লক্ষ্মীপুর ও ভোলা–বরিশাল নৌরুটেও।
ঘাটে নেমেও দুর্ভোগ কমছে না যাত্রীদের। পরিবহন সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বাস ও অটোরিকশার সংখ্যা যাত্রীর তুলনায় কম থাকায় অনেককেই দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
ঢাকা থেকে আসা যাত্রী মো. ইসমাইল জানান, সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। গরম ও চাপের মধ্যে কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। লঞ্চের স্বল্পতার কারণে যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম থেকে পরিবারসহ আসা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ইলিশা ঘাটে পৌঁছানোর পরই নতুন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে ইলিশা পর্যন্ত ভাড়া তুলনামূলক কম হলেও, সেখান থেকে মাত্র ২৪ কিলোমিটার পথ যেতে অটোরিকশা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা। এতে যাত্রীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ছেন।
অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঘাট সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ যান চলাচল সীমিত করছে। ফলে অনেক যাত্রীকে প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে পরিবহন ধরতে হচ্ছে।
অটোরিকশা ও সিএনজি চালকরা জানান, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে। তবে যাত্রীরা বলছেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
এদিকে, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সীমিত পরিসরে ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক যাত্রীর তুলনায় এ উদ্যোগ অপ্রতুল। ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।