দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটি নদীর ওপর নির্মিত গোমা সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হয়েছে। এর ফলে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিদ্যমান দুই লেনের সড়ক দিয়ে এই বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি নিয়ে প্রাথমিক কাজ ও পরিকল্পনা প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। চার লেনের সড়ক নির্মিত হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং যাতায়াতে সময় ও ভোগান্তি হ্রাস পাবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াত সহজ হবে। এতে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্ভাব্য যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। ঈদে বড় ধরনের যানজট হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে, গোমা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
২৮৩ দশমিক ১৮৮ মিটার দীর্ঘ গোমা সেতু পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস কাঠামোতে নির্মিত হয়েছে। সেতুর সঙ্গে প্রায় ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক, নদীতীর সংরক্ষণ, কংক্রিট স্লোপ প্রটেকশন, সাইন সিগন্যাল এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। পরে সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।