দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে জেলা ও উপজেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিএনপির নারী নেত্রীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত নয়জন নেত্রী ইতোমধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন, আবার অনেকে সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালী জেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা লায়লা ইয়াসমিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৭ সালে পাকসু নির্বাচনে ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ধাপে ধাপে জেলা মহিলা দল ও বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি জাতীয় মহিলা সংস্থার জেলা শাখার সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
এ ছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন দুমকীর বাসিন্দা ও জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ তালুকদারের স্ত্রী অধ্যাপিকা শাহারিয়া শারমিন, বাউফল উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সদস্য সালমা আলম লিলি, জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেসমিন জাফর, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আনোয়ারা বেগম, শিক্ষাবিদ ফেরদৌসী বেগম মিলি, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা ইয়াসমিন রুমা, সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা এবং সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাজমুন নাহার নাজু।
মনোনয়ন প্রত্যাশী নেত্রীরা বলছেন, দলের আস্থা অর্জন করে মনোনয়ন পেলে এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেত্রীদের মধ্য থেকেই এবার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ড কাকে বেছে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।