ঢাকা–পটুয়াখালী নৌরুটে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ সামাল দিতে লঞ্চ চলাচলে ‘রোটেশন প্রথা’ তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বাড়ানো হয়েছে ট্রিপ সংখ্যা। পাশাপাশি বিশেষ সার্ভিস চালুর প্রস্তুতিও চলছে। তবে নৌপথের একাধিক ডুবোচর ঈদযাত্রাকে ঘিরে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রুটের অন্তত সাতটি স্থানে নাব্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পটুয়াখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লোহালিয়া নদীর মোহনা, বগা, লক্ষিপাশা, সোনাকান্দা, কোবাই, বিশাইন কান্দি এবং মেঘনার প্রবেশমুখ গঙ্গার চর এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভাটার সময় এসব স্থানে লঞ্চ আটকে পড়ার ঘটনা নিয়মিত।
লঞ্চচালক ও সারেংদের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে। ভাটার সময় যাত্রা শুরু করলে মাঝপথে আটকে গিয়ে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ছে এবং সময়সূচি ভেঙে পড়ছে।
ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এক যাত্রী জানান, মাঝরাতে কোবাই এলাকায় তাদের লঞ্চ প্রায় দুই ঘণ্টা ডুবোচরে আটকে ছিল। পরিবার নিয়ে যাত্রায় এমন পরিস্থিতি ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা বলছেন, লঞ্চঘাটের নাব্যতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ঘাটে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় লঞ্চের তলদেশ চরে লেগে যাচ্ছে, ফলে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নৌপথের কার্যকারিতা হুমকিতে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় নৌপথ সচল রাখতে জরুরি ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পটুয়াখালী অংশে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে খননকাজ চলছে এবং ইতোমধ্যে কিছু পন্টুন এলাকায় বার্থিং সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বরিশাল অংশের ডুবোচর অপসারণের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এদিকে ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাটগুলোতে অতিরিক্ত টহল, নজরদারি এবং সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করা এবং টার্মিনাল এলাকায় অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সব মিলিয়ে যাত্রীচাপ মোকাবিলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি থাকলেও ডুবোচর সংকট দ্রুত সমাধান না হলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।