পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে তিনটি পরিবারের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দশমিনা উপজেলা-র রনগোপালদী ইউনিয়নে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল মৃধার রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পাশের বসতঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাবিব মৃধা, জাফর মৃধা ও কামাল মৃধার বসতঘরসহ ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। আগুনে কামাল মৃধার ঘরে থাকা প্রায় ১০টি ছাগলও মারা যায়।
প্রতিবেশী বিউটি বেগম আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বাড়ির লোকজনকে ডাক দেন। পরে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবার প্রায় সর্বস্ব হারিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারপ্রতি ১০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও তিনটি করে কম্বল দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর নির্মাণে দুই বান টিনও সরবরাহ করা হবে এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন পাঠানো হবে।
রনগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল মৃধা জানান, রাতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেলেও যানবাহনের অভাবে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। সকালে এসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য শাহানাজ বেগম অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী হারুন মৃধা ও তার ছেলে শাকিল মৃধা এ অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং ঘটনার আগের দিন তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত হারুন মৃধা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরেই তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।