আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি তেল বিক্রি ও ক্রয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে।
শুক্রবার সরকারের জ্বালানি বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফিলিং স্টেশন, ডিলার এবং ভোক্তা পর্যায়ে কিছু শর্ত অনুসরণ করতে হবে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল-সম্পর্কিত সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবার তেল নেওয়ার সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ বা বিল প্রদর্শন করতে হবে।
এছাড়া ডিলাররা বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদের ভিত্তিতে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের মজুত ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানিয়ে তেল উত্তোলন করতে হবে। তেল বিপণন কোম্পানিগুলোও ডিলারদের তেল সরবরাহের আগে বর্তমান বরাদ্দ অনুযায়ী মজুত ও বিক্রয় তথ্য যাচাই করবে এবং কোনো অবস্থায় বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার।
এছাড়া পিকআপ বা লোকাল বাস দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের ক্ষেত্রে দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এসব নির্দেশনা কার্যকর হলে জ্বালানি তেলের অপ্রয়োজনীয় মজুত, অতিরিক্ত ভিড় এবং সরবরাহে বিশৃঙ্খলা কমে আসবে।