ফেসবুকে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্যাতনের পর ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পটুয়াখালী পৌর নিউমার্কেট এলাকা থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরান বাজার মসজিদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি হাওলাদার সেলিম মিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা নুজরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মো. আবদুল হাকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন লিটন, সহ-সেক্রেটারি মাওলানা আবুল বাশার জেহাদী ও আবুল হাসান বোখারীসহ অন্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ফেসবুকে একটি মন্তব্যের জেরে ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক ইদ্রিস আলীকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িত নীলগঞ্জ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর করেছেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জহিরুল ইসলামের ছবি সম্বলিত একটি রান্না সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টে ইদ্রিস আলী তার ব্যক্তিগত আইডি থেকে একটি মন্তব্য করেন। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে যুবদল অফিসে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
পরদিন ৩ মার্চ সকালে নিহত ইদ্রিস আলীর স্ত্রী ও দুই সন্তান ঢাকায় অবস্থান থেকে তার মরদেহ নিয়ে কলাপাড়া থানা এলাকায় আসেন এবং ঘটনার বিচার দাবি করেন।